গোড়াপত্তন ও প্রেক্ষাপট
আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং স্বনামধন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৯৬০ সালে যখন এই অঞ্চলে শিক্ষার আলো তেমনভাবে পৌঁছায়নি, তখন এলাকার কতিপয় শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও আলোকিত মানুষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। শুরুতে এটি একটি সাধারণ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও, পরবর্তীতে স্থানীয় মানুষের চাহিদা ও শিক্ষার্থীদের মেধার মূল্যায়নে এটি ধাপে ধাপে একটি পূর্ণাঙ্গ কলেজ পর্যায়ে উন্নীত হয়।
প্রতিষ্ঠালগ্নে মাত্র ৫ জন শিক্ষক এবং ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে একটি টিনশেড ঘরে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠাতাদের দূরদর্শিতা এবং শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রমে অল্প দিনের মধ্যেই স্কুলটি এই অঞ্চলের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকদের অবদান ছিল অবিস্মরণীয়। যুদ্ধের সময় বিদ্যালয়টি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের একটি গোপন ক্যাম্প হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছিল।
— প্রতিষ্ঠাতা সদস্যবৃন্দের বাণী (১৯৬০)
স্বাধীনতার পর, ১৯৭৫ সালে বিদ্যালয়টি সরকার কর্তৃক স্বীকৃতি লাভ করে এবং প্রথম সরকারি অনুদান প্রাপ্ত হয়। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৯০ সালে এখানে কলেজ শাখা (একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি) যুক্ত করা হয় এবং এটি "আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ" হিসেবে নতুন করে আত্মপ্রকাশ করে। বর্তমানে এখানে বিজ্ঞান, মানবিক এবং ব্যবসায় শিক্ষা—এই তিনটি বিভাগেই উন্নত পাঠদান করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠাতাবৃন্দ ও দাতা সদস্য
যাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং জমি ও অর্থ দানে এই প্রতিষ্ঠানটি আজকের এই বিশাল রূপ পেয়েছে, আমরা তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ:
মরহুম আলহাজ্ব আব্দুল জলিল
প্রধান প্রতিষ্ঠাতা ও জমিদাতা
জনাব মোখলেসুর রহমান
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য
ডা. শামসুল হক
দাতা সদস্য (লাইব্রেরি ভবন)
মরহুম সিরাজুল ইসলাম
প্রথম প্রধান শিক্ষক (১৯৬০-১৯৭৮)